• call Us: +8801713046073

বদল || ড. মো. হারুনুর রশীদ || প্রযোজনা: উর্বশী ফোরাম

বদল || ড. মো. হারুনুর রশীদ || প্রযোজনা: উর্বশী ফোরাম

বদল     

ড. মো. হারুনুর রশীদ

প্রযোজনা: উর্বশী ফোরাম

 

চরিত্র পরিচিতি

প্রদীপ/ মাসুদ: ২৩ বছর

জাফর

মা

বাবা

লুৎফুন্নেসা (কুয়াশা)

আলীনূর

 

 

দৃশ্য: এক

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

ট্রাভেল ব্যাগ ঢাকা শহরের একটি মেসবাড়ি

(প্রদীপ কলিং বেলে চাপ দিলে দরজা খুলে জাফর।)

জাফর: প্রদীপ, তুই হঠাৎ ঢাকায়?

প্রদীপ: কেন ঢাকায় বুঝি আসতে মানা…

জাফর: না, তুই না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকতি–

প্রদীপ: হুম্ দূরবন্দরে থাকি ঢাকায় একটু ডাঙা দেখে চাঙা হতে এলাম আরকি-হা হা হা

জাফর: না সেটা নয় প্রদীপ, তুই পড়–য়া মানুষ, ঘোরাঘুরির জন্য তুই নিশ্চয় আসিসনি…

প্রদীপ: জাফর, আগে ভিতরে তো আসতে দে-তারপর সব বলছি…

দৃশ্য: দুই

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

মেসের ভেতর তিন দিকে তিনজন শোয়া   মেসের ভেতর

(জাফর বিছানায় বসা, প্রদীপ চেয়ারে)

প্রদীপ: ভার্সিটির হল ছেড়ে দিয়েছি, তোকে সেদিন ফোনে বললাম না। মাস্টার্স থিসিসও জমা দিয়ে ফেলেছি।

জাফর: আস্তে কথা বল, সবাই দুপুরের ভাতঘুম দিচ্ছে, বুঝিস না।

প্রদীপ: চল তবে বারান্দায় গিয়ে কথা বলি, আস্তে কথা বলে মজা পাব না।

(দুজনে বারান্দায় চলে যায়। বারান্দায় চতুর্দিকে কালো প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো।)

প্রদীপ: একি বারান্দার চারদিকে প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো কেন?

জাফর: আর বলিস না, ওইদিকের বাড়িওয়ালার একটা মেয়ে আছে বুঝলি, আমাদের মেসের কে নাকি ওকে ফলো করে। সেদিন এসে কি চিল্লাচিল্লি। অবশেষে আমাদের বাড়িওয়ালা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে দিল এই আরকি!

প্রদীপ: না বলছিলাম যে আমার চাকরিবাকরি দরকার। বিসিএস দেবো ভাবছি। গ্রামের বাড়িতে থাকলে পড়াশোনা লাটে উঠবে। তাই ঢাকায় থাকতে চাই।

জাফর: তা এখানেই থাকতে পারিস, কোনো সমস্যা নেই। একটা সিট আগামী মাসেই ফাঁকা হয়ে যাবে।

প্রদীপ: সে না হয় হলো, কিন্তু বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আর কত চলবো বল। একটা টিউশনি ম্যানেজ করে দিতে পারিস?

জাফর: (একটু ভাবে) আমার এলাকার এক খালা থাকে। আমাকে সেদিন ফোন করল ক্লাস ফোরের জন্য একটা টিচার দরকার। কিন্তু আমি তো বুঝিসই এসব পড়ানো, পড়ার লাইনে আমি নেই। তোকে ওখানে দিতে পারি, কিন্তু একটা সমস্যা আছে।

প্রদীপ: কী?

জাফর: সেটা হলো ওই খালুটা না খুব রক্ষণশীল টাইপের। তুই তো আবার হিন্দু। মনে হয় না তোকে দিয়ে বাচ্চা পড়াতে রাজি হবে। একটু চাল চালতে হবে।

প্রদীপ: কেমন?

জাফর: তুই হিন্দু এটা বলবি না। উম-্ তোর একটা নাম দিয়ে দিচ্ছি। তোর প্রদীপ নামটা চলবে না। তুই এখন থেকে মাসুুদ।

প্রদীপ: বলিস কি! নিজের নাম পাল্টে ধর্ম পাল্টে টিউশনি করবো? না, না এরকম মিথ্যা দিয়ে শুরু করতে পারবো না।

জাফর: আরে কি এটা কি তোর সারাজীবন নাকি? টিউশনি শেষ কাজ শেষ, আমি তো আর সার্টিফিকেটের নাম পাল্টাতে বলছি না।

প্রদীপ: না, তবুও কেমন যেন অপরাধ মনে হচ্ছে!

জাফর: আরে ধ্যাৎ, ঢাকা শহরের জীবনের জটিলতা অনেক কুটিল, একদম চিন্তা করবি না, আজ বিকেলেই খালার বাসায় যাচ্ছি, ব্যস্

প্রদীপ: (আমতা আমতা করে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে)

 

 

দৃশ্য: তিন

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

জাফর, মা, বাবা, প্রদীপ ঢাকা শহরের একটি আধুনিক ফ্ল্যাট, ড্রয়িং রুম

(জাফর, প্রদীপ সোফায় বসা, অন্যদিকে বসা বাড়ির মালিক বাবা)

জাফর: খালুজান, ওর বাড়ি আর আমার বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে। আমরা ছেলেবেলার বন্ধু। ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো আর আমি ঢাকায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে…এই আর কি!

বাবা: ও বুয়েট থেকে না? তোমার খালা যে বলছিল বুয়েট থেকে পাশ করা!

(মা চা নিয়ে আসে)

মা: না আমি জাফরকে বলেছিলাম, বুয়েটে কোন ছাত্র টিচার হলে ভাল হয়। এই ছেলে বুয়েটের তা বলিনি।

জাফর: খালুজান ও খুব ভালো ছাত্র। সায়েন্সে পড়াশোনা করেছে, আলীনূর তো কেবল ফোরে পড়ে। ও খুব ভালো পড়াতে পারবে।

বাবা: হুম্ তোমার নাম কী?

প্রদীপ: ইয়ে প.. প..

জাফর: ও মাসুদ, মাসুদ খালুজান… মো. মাসুদ হোসেন

বাবা: মাশাল্লাহ্। দেখ বাপু আমার ছেলেটা একটু একরোখা, পড়াশোনা করতে চায় না একটু বুদ্ধির অ¯^াভাবিকতা আছে বলে আমার মনে হয়, সামলে নিতে পারলে ভালো হবে…

প্রদীপ: জ্বি আংকেল আমি আমি চেষ্টা করবো।

দৃশ্য: চার

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

প্রদীপ, আলীনূর, কুয়াশা আলীনূরের পড়ার ঘর

(প্রদীপ পড়ানোর টেবিলে বসা, আলীনূর বাথরুমের ভেতরে দরজা বন্ধ করা)

প্রদীপ: কই আলীনূর তোমাকে পড়ার জন্য ডাকছি, এসো-

আলীনূর:  (ভেতর থেকে) আমি এখানে, আমি তোমার কাছে পড়ব না।

প্রদীপ: পড়বে না কেন?

আলীনূর: আমার পড়তে ভালো লাগে না। লেখাপড়া একটা পচা, পচা জিনিস…

প্রদীপ: হুম্ । আমি একটা খুব মজার জিনিস নিয়ে এসেছিলাম সেটা আর তোমাকে দেখাতে পারলাম না। চলে যাচ্ছি…

(দরজা খুলে বের হয়ে উঁকি দিয়ে)

আলীনূর: কী জিনিস? খেলনা? আমার অনেকগুলো আছে।

প্রদীপ: খেলনা নয়। একটা জাদুর বা· আছে। সেটা খুললে এমন একটা কিছু বের হবে যা কেবল মানুষ ¯^প্নেই দেখেছে।

আলীনূর: দেখাও আমাকে-

প্রদীপ: দেখাবো, একটা শর্ত আছে। আগে পড়া শেষ করতে হবে তারপর দেখাবো।

আলীনূর: আমি পড়ব না, বলেছি না (ধুম করে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে ভেতরে ঢুকে যায়)

প্রদীপ: আচ্ছা ঠিক আছে, পড়তে হবে না একটা গল্প শুনতে হবে। গল্প শুনলেই পেয়ে যাবে জাদুর বা·-

আলীনূর: উম্ তুমি আমাকে মিথ্যা কথা বলে ভুলাচ্ছ? আমি পড়ব না কিন্তু

প্রদীপ: বিশ্বাস করো, মা দুর্গার দিব্যি…

(পিছন থেকে দেখে ফেলে কুয়াশা)

কুয়াশা: স্যার, আপনি মুসলিম হয়ে মা দুর্গার দিব্যি কাটছেন কেন?

প্রদীপ: এই সেরেছে?

কুয়াশা: কী?

প্রদীপ: না কিছু না, কীভাবে যেন মুখে চলে এসেছে। আমার অনেক হিন্দু বন্ধু আছে তো। আচ্ছা তোমার নাম কী?

কুয়াশা: বাবা আমার নাম রেখেছে লুৎফুন্নেসা। কিন্তু নামটা আমার পছন্দ না। কেমন পুরাতন নাম। তাই আমি মাকে বলে নিজে একটা নাম রেখেছি কুয়াশা। বাবা ছাড়া সবাই আমাকে এই নামে ডাকে। আপনি আমাকে ওই নামেই ডাকবেন। কি সুন্দর নাম না?

প্রদীপ: হুঁ অনেক কঠিন?

কুয়াশা: কঠিন কেন হবে? কুয়াশা চেনেন না?

প্রদীপ: না মানে ফগ। ফগি ফগি একটা ব্যাপার। দেখা যায় না, চেনা যায় না কেমন জটিল হয়েছে।

কুয়াশা: ইয়েস! জটিল!

আলীনূর: স্যার আমাকে গল্প বলো…

প্রদীপ: ঠিক…এক লোকের তিনটি ছেলে ছিলো। তার মধ্যে সবচেয়ে ছোটটি ছিলো তোমার মতো দেখতে… কিন্তু সে-ই ছিলো সবচেয়ে বুদ্ধিমান…

(ধীরে ধীরে সাউন্ড শূন্য হয়ে যাবে। শুধু তাদের পড়ার একটা আনন্দময় পরিবেশ দেখা যাবে। আলীনূর বই বের করবে, সে প্রদীপের কাছে মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকবে। এর মধ্যে কুয়াশা বেরিয়ে যাবে। আলীনূরকে একটা বা· থেকে একটা গেইম ব· বের করে দেখানোর পর প্রদীপ সেটা পুনরায় পকেটে ঢুকিয়ে রাখবে। কুয়াশা এবার বই নিয়ে পড়তে আসে প্রদীপের কাছে)

প্রদীপ: তবে, আজ তোমার ছুটি… তুমি এখন বাইরে গিয়ে বন্ধুদের সাথে খেলতে পারো।

আলীনূর: ঠিক আছে স্যার। কাল কিন্তু আবার আসবে। একটা নতুন গল্প বলতে হবে।

প্রদীপ: অবশ্যই, কাল শুধুই গল্প হবে কোনো পড়া নেই তোমার

আলীনূর:  ইয়ে… কি মজা… ( বেরিয়ে যায়)

কুয়াশা: স্যার, একটা কথা বলবো, আলীনূরকে পড়ানোর জন্য বাবা অনেক টিচার রেখেছিলেন। আজ পর্যন্ত কোনো টিচার তাকে পড়াতে পারেনি। এই প্রথম আপনার কাছে ও সুন্দরমতো পড়লো। আমি আপনার এই পড়ানোর কৌশলে সত্যি মুগ্ধ হয়েছি। আমাকে একটু সায়েন্স-এর সাবজেক্টগুলো দেখিয়ে দেবেন স্যার?

প্রদীপ: শুধু সায়েন্স নয়, আমি বাংলা ইংরেজি সব তোমাকে দেখিয়ে দেবো। তবে আজ পারছি না। আমার বিসিএস-এর গ্রæপ স্টাডিতে যেতে হবে। কাল থেকে কেমন?

কুয়াশা: জ্বি স্যার—¯øামালিকুম।

প্রদীপ: ও..ওয়ালাকুম সালাম।

 

দৃশ্য-পাঁচ

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

মা, প্রদীপ, কুয়াশা, আলীনূর   বাড়ি

 

(বাসার ভেতরে কলিং বেল বেজে ওঠে। দরজা খুলে দেয় মা। প্রদীপ ঢোকে)

প্রদীপ: আদাব আন্টি

মা: কি রে বাবা মুসলমান ছেলে আদাব কেন?

প্রদীপ: স্যরি আন্টি, এই হিন্দু এক বন্ধুর সঙ্গে থেকে এরকম হয়ে যায়…আন্টি এক গ্লাস জল খাবো

মা: জল মানে…

প্রদীপ: না না না পানি পানি…

মা: আচ্ছা দিচ্ছি (মা পানি আনতে যায়)

(আলীনূর আসে)

আলীনূর: স্যার আসলামোয়ালাইকুম। স্যার তুমি গতকাল যে হোমওয়ার্ক দিয়েছ আমি সব করে রেখেছি। আমার খুব মজা লেগেছে। আমাকে আজকে আরও বেশি পড়া দিয়ে যাবে। কালকের গল্পটার পরের অংশটা কিন্তু আজকে বলতে চেয়েছিলে… বলতে হবে অবশ্যই

প্রদীপ: বাহ! আলীনূর আমাদের ল²ীসোনা।

(কুয়াশা আসে)

কুয়াশা: আজ আমাকে পড়ানোর কথা…

আলীনূর:  না, আমি আগে পড়বো

কুয়াশা: স্যার, ও ছোট মানুষ এত পড়া লাগবে না, আমাকে আগে পড়াবেন

প্রদীপ: আচ্ছা ঝগড়া বন্ধ! আমি দুজনকেই একসঙ্গে পড়াবো, কোনো অসুবিধা আছে…? চলো…

মা: বাবা মাসুদ, সত্যি তোমার মতো একটা টিচার পেয়ে আমরা খুব খুশি। তোমার আঙ্কেল ওদের নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তা করতো। বিশেষভাবে ছেলেটাকে নিয়ে। আমরা তো ওকে ডিজেবল বাচ্চাদের মতো মনে করে সেই স্কুলে দেওয়ার চিন্তা করেছি। তোমার পড়ানোর পদ্ধতি দেখে এখন মেয়েটাও পড়ছে। ওকে আর পড়ার কথা বলতে হয় না। তুমি এভাবে দুজনকেই পড়াতে থাকো বাবা…

প্রদীপ: সেটা আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। তবে আমার একটা অনুরোধ আছে, কীভাবে পড়াবো এ বিষয়ে আপনারা কোনো লিডগাইড করবেন না আমাকে। আমার একটা পথ আছে আমাকে সেভাবে পড়াতে দেবেন। আসলে বাচ্চাদের অধিক শাসন করলে বখে যায়, সে জায়গা থেকে আমি এদের দুজনকে মুক্ত রাখতে চাই।

মা: ঠিক আছে বাবা তুমি তোমার মতো পড়াও আমরা কিছু বলবো না, এবার হলো তো?

প্রদীপ: ঠিক আছে।

 

দৃশ্য: ৬

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

কুয়াশা, আলীনূর, প্রদীপ  আলীনূরের পড়ার ঘর (সাজানো), কার্ড, রং

 

প্রদীপ: আলীনূর দরজা খোলো। আলীনূর।

আলীনূর: স্যার একটু দাঁড়াও। দ্ইু মিনিট।

(কুয়াশা আসে)

কুয়াশা: আহা, স্যারকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিস কেন? এটা কি ঠিক?

আলীনূর: আপু একটু দাঁড়াও, আরও এক মিনিট।

(দরজা খোলে। রুমের ভেতরে দেখা যায় আলীনূর টেবিলের চারপাশটা কাগজ কেটে সাজিয়েছে। উপরে একটা জায়গায় বড় করে লিখেছে হ্যাপি টিচার্র্স ডে। )

আলীনূর: স্যার, হ্যাপি টিচার্স ডে। আজকে আমি তোমার জন্য একটা  কার্ড বানিয়েছি। এই নাও…

প্রদীপ: আলীনূর! এ কি করেছ তুমি?

আলীনূর: কেন? ভালো হয়নি স্যার!

প্রদীপ: খুব সুন্দর হয়েছে আলীনূর! থ্যাংক ইউ!

কুয়াশা: হ্যাপি টিচার্স ডে স্যার!

প্রদীপ: খালি খালি হ্যাপি টিচার্স ডে বললে তো হবে না কুয়াশা। এই দেখো আলীনূর কত কষ্ট করে আমাকে শুভেচছা জানাচ্ছে। তুমি তো এমন কিছু করলে না।

কুয়াশা: স্যার, কী করতে পারি? আমি স্যরি, আলীনূরের মতো আমি ভেবে দেখিনি। তবুও স্যার আজকের এই বিশেষ দিনে আপনাকে সত্যিই কিছু দিতে ইচ্ছে করছে।

প্রদীপ: আমি তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো দেবে?

কুয়াশা: স্যার, শিক্ষাজীবনের এই প্রথম আমার পড়াশোনা আনন্দের মনে হচ্ছে। আপনাকে দেবো না এমন কিছু আমার নেই স্যার।

প্রদীপ: জিনিসটি তোমার আছে, তুমি সেটাই দেবে।

কুয়াশা: তবে অবশ্যই দেবো স্যার…

প্রদীপ: দেখো পড়াশোনা মনোযোগিতায় স্টুডেন্ট লাইফের সবচেয়ে সময়খেকো বাঘ হচ্ছে তোমার হাতের মোবাইল ফোনটা। আমি প্রথম দিন থেকেই দেখছি এটা ছাড়া তুমি একমিনিটও থাকতে পারো না। কিছুক্ষণ পরপর তুমি নোটিফিকেশন চেক কর। এই দেখো আমার ফোন। আমার প্রয়োজন হয় না ফেসবুকের। আমি আজ  তোমার এই ফোনটা চাই। আমি তোমার বাবাকে দেবো এটা।

কুয়াশা: স্যার, এই ফোনটা আমি কাউকে দিতে পারবো না। বাবাকে অনেক অত্যাচার করে আমি এটা জোর করে কিনিয়ে নিয়েছি। এটা ছাড়া রাতে আমার ঘুম আসে না স্যার।

প্রদীপ: তুমি সেটা দেবে।

আলীনূর: দিয়ে দে আপু। আমার ফোন হলে আমি এমনিই দিয়ে দিতাম।

কুয়াশা: স্যরি স্যার, এটা দিতে আমি পারবো না।

প্রদীপ: ওকে। তাহলে আর কিছু চাইব না তোমার কাছ থেকে। এসো পড়তে বসো…

(পড়ানোর কিছু দৃশ্য দেখানো হবে। সাউন্ড শোনানো হবে না।)

 

দৃশ্য: ৭

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

মা, বাবা, কুয়াশা, আলীনূর, প্রদীপ  বাড়ির ড্রয়িং রুম

 

(বাবা অফিস থেকে এসে জুতা মোজা খোলে। কোর্ট খোলে, মা সেটা হাতে ধরে নেয়)

বাবা: লুৎফুন্নেসা কোথায়?

মা: ওরা দুই ভাইবোনই মাসুদের কাছে পড়ছে। মাসুদ পড়ানো শুরুর পর থেকে মাশাল্লাহ ছেলে মেয়ে দুজনেরই বদল ঘটেছে।  মেয়ের পড়াশোনায় এত আগ্রহ কখনও দেখিনি।

(আলীনূর দৌড়ে আসে।)

আলীনূর: বাবা-

বাবা: কী খবর বাবা আলীনূর?

আলীনূর: বাবা দেখো, আমি সব সাবজেক্টে এ প্লাস পেয়েছি। (রিপোর্ট কার্ড দেখায়)

বাবা: সাবাশ, কী ভালো ছেলে আমার, এসো বাবা তোমাকে একবার জড়িয়ে ধরি…ভাবতেই পারিনি আমার ছেলে এতোটা উন্নতি করবে।

(প্রদীপ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে)

প্রদীপ: (হাত জোড় করে নমস্কারের ভঙ্গিতে) আঙ্কেল, ন..ন ইয়ে সালামালিকুম।

বাবা: ওয়ালাইকুম সালাম। বসো বাবা মাসুদ। তুমি হিন্দুদের মতো গলায় তুলসীর মালা কেনো পরো বুঝতে পারি না।

প্রদীপ: ও, আচ্ছা। কাল থেকে আর পরবো না আঙ্কেল ।

বাবা: বলছিলাম কি মাসুদ, আমি তোমার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ হলাম। আমার সন্তান দুটোকে যে সঠিক পথে আনতে পেরেছ তাতে আমি যারপরনাই আনন্দিত হয়েছি। বাবার কাছে এর চেয়ে আপ্লুত হওয়ার আর কি খবর হতে পারে। যাই হোক, ইদের ছুটি তো শুরু হয়ে গেল। তুমি তো গ্রামের বাড়িতে যাবে ইদ করতে তাই না?

প্রদীপ: আজ্ঞে না আঙ্কেল। আমি ইদে বাড়ি যাব না। কারণ ইদের পরই আমার বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা।

বাবা: তাহলে তো বেশ ভালোই হলো। এবার তুমি আমাদের বাড়িতে থেকে আমাদের সঙ্গে ইদ করবে। আমি তোমার জন্য একসেট পাঞ্জাবি-পাজামা কিনে রেখেছি। ইদের দিন সকালে গোসল সেরে একসঙ্গে নামাযে যাব কেমন?

প্রদীপ: ইয়ে না মানে আঙ্কেল বলছিলাম কি…

বাবা: কোনো মানে টানে নেই মাসুদ। আমাদের বাড়িতে থাকবে একসঙ্গে  ইদ করবো ব্যস।

(কুয়াশা আসে)

কুয়াশা: বাবা-

বাবা: কেমন আছে আমার লুৎফুন্নেসা মা-মণি। আমার মা-কে সত্যিই আমি নবাবের লুৎফা হিসেবে দেখতে চাই।

কুয়াশা: বাবা, আমি আর ফোন ব্যবহার করবো না। আমার পড়াশোনার ক্ষতি হয়। এই ফোনটা তুমি নিয়ে নাও…

বাবা: কী বলছে আমার মেয়ে, এই আই ফোনের জন্য তুই একমাস আমাকে বাড়িতে শান্তিমতো থাকতে দিসনি। আজ তোর মুখে এই কথা?

কুয়াশা: হ্যাঁ, বাবা সত্যিই বলছি আমি। এই নাও…

(প্রদীপ ও কুয়াশার চোখাচোখি হয়, অন্যরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ¯েøা মোশনে প্রদীপ বাসা থেকে বের হয়ে যায়।)

দৃশ্য-৮

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

প্রদীপ, জাফর    মেসের ভেতর

 

(মেসে জাফরকে দেখা যায় ট্রাভেল ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য রেডি। ঘরে ঢোকে প্রদীপ)

প্রদীপ: জাফর, কোথায় যাচ্ছিস? ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে…

জাফর: কেন, বাড়ি যাব না? কাল বাদে পরশু ইদ। তুই কোথায় ছিলি সারাদিন? তোর জন্যই বসে আছি মেসের সবাই চলে গেছে। তোর গাড়ি ক’টায়?

প্রদীপ: কিসের গাড়ি?

জাফর: তুই বাড়ি যাবি না? তোর বাড়ি যাওয়ার গাড়ি।

প্রদীপ: আমি তো বাড়ি যাব না, ইদের পর আমার প্রিলি পরীক্ষা।

জাফর: দ্যাখ প্রদীপ, আমাদের ইদ বলে একটা কথা। ইদের সময় পাঁচদিন মেস টোটালি বন্ধ থাকবে। বাড়িওয়ালার নির্দেশ। এক্ষুণি বেরোতে হবে তালা বন্ধ করে চাবি দিয়ে যেতে হবে বাড়িওয়ালাকে…

প্রদীপ: কী আশ্চর্য আমার তো ইদ নয়, আমি তো হিন্দু আমি কেন বাড়ি যাবো? তাছাড়া আমার কাজ আছে। পাঁচদিন মেস কেন বন্ধ থাকবে। আমরা কি এই পাঁচদিনের ভাড়া দিইনি?

জাফর: বন্ধু, ব্যাচেলরদের জন্য এমনি বাড়ি ভাড়া পাওয়া কঠিন। জোরাজুরি করলে বাড়িওয়ালা সবাইকে উঠিয়ে দেবে।

প্রদীপ: তবে?

জাফর: তবে আর কি? যেতে হবে…

প্রদীপ: গুছাতে সময় তো লাগবে

জাফর: আমি তোর ট্রাভেল ব্যাগে সব ঢুকিয়ে রেখেছি। এটা হাতে নেরে দোস্ত। আমি বাড়িওলাকে চাবি দিয়ে চলে যাচ্ছি সন্ধ্যা ৭টায় আমার ট্রেন।

(তালা বন্ধ করতে দেখা যায়। প্রদীপকে একটা ব্যাগ হাতে নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে দেখা যায়)

 

 

দৃশ্য-৯

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

বাবা, প্রদীপ    বাড়ি

 

(দরজা খুলে দেয় বাবা। প্রদীপ ঢোকে)

বাবা: মাসুদ, একেবারে ব্যাগপত্রসহ..

প্রদীপ: আঙ্কেল, বাড়িওয়ালা মেস বন্ধ করে দিয়েছে পাঁচদিনের জন্য।

বাবা: ও তাই নাকি! কোনো অসুবিধা নেই তুমি আমার বাড়িতে থাকবে। আমি তো আগেও বলেছি একসঙ্গে ইদের নামাজ পড়বো এবার।

প্রদীপ: (আৎকে ওঠে) আঙ্কেল!

বাবা: কী হলো–

প্রদীপ: না, ভেতরে যাই?

 

দৃশ্য-১০

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

প্রদীপ বাড়ির একটি বেডরুম

 

(প্রদীপ একটা বিছানায় শুয়ে ভাবে)

প্রদীপ: (¯^গত) কাল ইদ, কী হবে এখন? কাল এখানে থাকলে নির্ঘাৎ আঙ্কেল-এর সঙ্গে ইদগাহে গিয়ে নামাজ পড়ে আসতে হবে। কী করা যায়? কেন যে একটা মিথ্যার ভেতর ঢুকে পড়লাম, এখন কিছুতেই সত্যটা বলতে পারছি না। কী যে হয়! (হঠাৎ কী যেন মনে পড়ে। লাফিয়ে উঠে দরজা খুলে বেরোয়।)

দৃশ্য-১১

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

বাড়ির ছাদ কুয়াশা, আলীনূর, প্রদীপ

 

(প্রদীপ ছাদে উঠে। একটা গান ভেসে আসছে। ওমন রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ইদ) কুয়াশা সেখানে একটা দোলনায় বসে হাতে মেহেদি দিচ্ছে। আলীনূর একটা ইদকার্ডে রং করছে। প্রদীপকে দেখে আলীনূর কার্ডটি লুকিয়ে রাখে এবং কুয়াশার দিকে তাকিয়ে থাকে)

কুয়াশা: স্যার, আপনি ছাদে! পড়াশোনা বাদ দিয়ে এরকম খোলা আকাশ কখনও দেখেছেন স্যার? আজ কি যে আনন্দ হচ্ছে, এই ইদের গানটা আমার ভীষণ প্রিয়…

প্রদীপ: কুয়াশা একটা সমস্যায় পড়েছি, তোমাকে কী করে যে বলি…

কুয়াশা: আমাকে বলেন স্যার, আমি যদি কিছু করতে পারি

প্রদীপ: কাল ভোরে না আমাকে একটু মেসে যেতে হবে

কুয়াশা: কেন? কাল সকালে না ইদ। বাবা আপনাকে কী বলেছেন মনে নেই? একসঙ্গে নামাজ পড়তে হবে

প্রদীপ: সেটাই তো মুশকিল হয়েছে

কুয়াশা: মুশকিল?

প্রদীপ: আসলে আমি কিছু জিনিস ফেলে এসেছি কি না মেসে, নামাজ পড়া একটু ঝামেলা হয়ে যাবে

কুয়াশা: কী জিনিস, বলুন, আজকে চাঁদ রাত, মার্কেট থেকে কিনে নিয়ে আসবো…

প্রদীপ: না ওটা এমন এক জিনিস যা এরকম ধর্মীয় উৎসবে নিজের কাছে রাখতে হয়

কুয়াশা: মানে?

প্রদীপ: তুমি বুঝবে না কুয়াশা। বড় হলে বুঝবে। আমাকে কাল সকালে বাসার দরজাটা একটু খুলে দেবে। তোমার বাবা গেটে তালা বন্ধ করে রাখে। ভোরে উঠে তুমি চাবি দিয়ে খুলে দেবে। আমি সকালে মেসে যাবো, ইদের নামাজের পর না-হয় চলে আসবো…প্লিজ কুয়াশা

কুয়াশা: ঠিক আছে, ভোর ছ’টায় আমি চাবি নিয়ে দরজার কাছে বসে থাকবো।

প্রদীপ: অ্যাডভান্স থ্যাংকস। যাই কুয়াশা কেমন? একটু পড়াশোনা করি…

(প্রদীপ কিছুদূর চলে যায়, কুয়াশা ডাকে)

কুয়াশা: স্যার, আমিও একটা সমস্যায় পড়েছি, হেল্প করবেন?

প্রদীপ: অবশ্যই…

কুয়াশা: আমাকে আর কুয়াশা নামে ডাকবেন না, বাবার দেওয়া নাম লুৎফুন্নেসা করেই ডাকবেন।

প্রদীপ: কী বলছ তুমি? এই নাম তো তুমিই নিজে রেখেছিলে।।

কুয়াশা: আমি আমার চিন্তা বদল করেছি স্যার। কুয়াশা’র আবছায়ায় থাকার চেয়ে লুৎফুন্নেসার অতীতে ফিরে যাওয়া অনেক ভালো।

প্রদীপ: তোমার এই ভীষণ ত্যাগী মানসিকতা আমায় খুব আকৃষ্ট করে লুৎফুন্নেসা। ভোরের আলো ফোটার সময় দেখা হবে তোমার সঙ্গে…

দৃশ্য-১২

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

প্রদীপ, কুয়াশা, আলীনূর বাড়ি

 

(বাহির হওয়ার দরজার কাছে কুয়াশা একটা টিফিন বাটি নিয়ে বসে আছে। প্রদীপ একটু সতর্কভাবে বের হতে থাকে। দরজার কাছে আসলে)

প্রদীপ: তোমার ঘুম ভেঙেছিলো? আমি তো চিন্তায় ছিলাম তুমি ঘুম থেকে উঠতে পারো কি না!

কুয়াশা: আমি ভোর তিনটায় উঠেছি স্যার।

প্রদীপ: কী বলছো, কেন?

কুয়াশা: আপনার জন্য ইদের খাবার রান্না করেছি। শেমাই রেঁধেছি, রুটি বানিয়েছি। ফ্রিজে রান্না করা মুরগির মাংস ছিলো, ওভেনে গরম করে দিয়েছি। নিজের হাতে শেমাই করেছি স্যার! জানি না আপনি খেতে পারবেন কিনা। একটু কষ্ট করে খাবেন। ফেলে দেবেন না যেন। এই নিন।

প্রদীপ: কুয়াশা…!

কুয়াশা: (মাথা নাড়িয়ে ) উঁহু, লুৎফুন্নেসা। আপনি আমার চোখ খুলে দিয়েছেন স্যার, আমি অন্ধকারের ভেতরও এখন আলো দেখি। (চোখে পানি চলে আসে)

(টিফিন বাটিটা হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যেতে থাকে প্রদীপ। নিচে নামতেই পেছন থেকে ডাকে আলীনূর।)

আলীনূর: স্যার!

(প্রদীপ তাকায়)

আলীনূর: (কাছে গিয়ে) তোমার জন্য একটা ইদকার্ড বানিয়েছি। ইদ মোবারক স্যার!

(প্রদীপ কেঁদে ফেলে, জড়িয়ে ধরে আলীনূরকে। তারপর তাকে রেখে ধীরে ধীরে চলে যেতে থাকে)

দৃশ্য: ১৩

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

বাবা, মা, কুয়াশা বাড়ির ভেতর, ইদের পোশাকে

 

বাবা: এটা একটা কথা হলো, ইদের দিন ছেলেটাকে তোমরা চলে যেতে দিলে। তোমাকে বললো আর অমনি তুমি দরজা খুলে দিলে। আমাকে ডাকলে কী হত?

(কুয়াশা মাথা নিচু করে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁত দিয়ে নখ খুঁটতে থাকে। আলীনূর পাঞ্জাবি পরে একটা গাড়ি নিয়ে খেলছে)

বাবা: আলীনূর চলো নামাজে চলো…

মা: একটু শেমাই, মিষ্টি কিছু খেয়ে তো যাও

বাবা: ভালো লাগছে না, এসে খাবো…চলো চলো

দৃশ্য: ১৪

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

বাবা, আলীনূর, প্রদীপ   ঢাকার রাস্তা

 

(প্রদীপকে ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে দেখা। একটা পার্কে কিছুক্ষণ বসে থাকতে দেখা যাবে। ইদের জামাতের একটা দৃশ্য দেখাতে হবে। নামাজ থেকে ফিরে আসছে বাবা ও আলীনূর। মন্দিরে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে প্রদীপকে)

আলীনূর: বাবা, দেখো স্যার।

বাবা: কোন স্যার?

আলীনূর: আমাদের মাসুদ স্যার। মন্দিরের সামনে।

(বাবা খুব অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। প্রদীপকে মন্দিরে মূর্তিদের সামনে হাতজোড়  করে দাঁড়াতে দেখা যায়। পূজা করতে দেখা যায় আরো কয়েকজনকে)

দৃশ্য:১৫

চরিত্র ও সাজসজ্জা  প্রপস্/ জিনিসপত্র

মা, বাবা, আলীনূর, কুয়াশা, প্রদীপ   বাড়ি

(প্রদীপকে ব্যাগ হাতে চলে যেতে দেখা যায়)

বাবা: দাঁড়াও।  তোমার মিথ্যা কথা বলার জন্য আমি তোমায় তিরস্কার করেছি। তোমার বাবা হলেও এরকম মিথ্যা বললে বকতেন। পৃথিবীর সমস্ত ধর্মে মিথ্যা নিষিদ্ধ। পৃথিবীর সমস্ত ধর্মে মানবতা বরণীয়। পৃথিবীর সমস্ত ধর্মের মূল বাণী শান্তি। আমি বুঝতে পেরেছি, তুমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছ। দোষটা তোমার নয়, যে তোমাকে মিথ্যার পথে এনেছে দোষটা তার। আমরা  একসঙ্গে ইদের নামাজ পড়তে পারি না, কারণ ধর্মের বিভেদ। কিন্তু একসঙ্গে ইদের খাবার খেতে পারি, আনন্দ করতে পারি, এখানে তো কোনো বিভেদ নেই।

প্রদীপ: (ব্যাগ রেখে ¯েøা মোশনে বাবাকে কদমবুচি করতে যায়, বাবা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

  • Prev Post
  • Next Post

LeaveComment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »