• call Us: +8801713046073

গুরুছায়া || ড. মো. হারুনুর রশীদ || প্রযোজনা : উর্বশী ফোরাম

গুরুছায়া || ড. মো. হারুনুর রশীদ || প্রযোজনা : উর্বশী ফোরাম

ক্ষুদে নাটক

 

গুরুছায়া

ড. মো. হারুনুর রশীদ

প্রযোজনা : উর্বশী ফোরাম

 

চরিত্র পরিচিতি

বাবা- ৪৫-৫০ বছর

মা- ৪০-৪৫ বছর

জাহিদ- ১৮ বছর

অধ্যক্ষ- ৫০-৫৫ বছর

রহমান- ৪০ বছর

 

 

 

 

দৃশ্য-১

(বাবা জাহিদের টেবিলে দেখে কোনো বই নেই। এদিক সেদিক খোঁজে)

বাবা: জাহিদ, জাহিদÑ এই জাহিদ—

(জাহিদ আসে)

জাহিদ: জ্বি বাবা!

বাবা: তোমার পড়ার টেবিলে কোনো বই নেই কেন? আর ক’মাস বাদে তোমার ইন্টার পরীক্ষা ! তোমার টেবিল ফাঁকা! এতো এতো বই কিনে দিলাম বই কি করেছ?

জাহিদ: বাবা, বই সব তুলে রেখে দিয়েছি?

বাবা: কোথায়?

জাহিদ: বাথরুমের ওপরে লকারে–

বাবা: কেন?

জাহিদ: আমি এবারও অংকে ফেল করেছি। আমার ক্লাসটিচার বলেছেন, বাবা জাহিদ তোমাকে দিয়ে আর পড়াশোনা হবে না। এসএসসিতে অংকে কম নম্বর পেয়ে পরীক্ষায় পাশ করেছ। উচ্চ মাধ্যমিকে এই নিয়ে দু’বার অংকে ফেল করলে।’ আমার মনে হলো স্যার তো ঠিকই বলেছেন। স্যার এতো অভিজ্ঞ মানুষ! স্যার যখন বলেছেন আমার পড়াশোনা হবে না তাই আমি শুধু শুধু পড়ব কেন বাবা? তাই বইপত্র তুলে রেখে দিয়েছি। আমি আর পড়াশোনা করব না।

বাবা: কিÑ? তোমার স্যার বলেছেন তোমার পড়াশোনা হবে না আর তুমি বইপত্র সব ওপরে তুলে রেখে দিলে!

জাহিদ: বাবা, স্যার অনেক জানেন। স্যার ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন-

বাবা: তোর ভবিষ্যৎ বলার খ্যাতা পুড়ি! চল্ এক্ষুণি স্কুলে আমি তোর প্রিনসিপালের কাছে কমপ্লেইন করবো-, ওই টিচারের আমি চাকরি খেয়ে ফেলবো, আমার ছেলেকে নিয়ে যা- তা-। যা  রেডি হয়ে নে-।

 

 

দৃশ্য-২ (অধ্যক্ষের কক্ষ)

অধ্যক্ষ: রহমান সাহেব, ছাত্রের বাবা যা যা বলছে সবই কি সত্য?

রহমান: জ্বি স্যার সত্য। ছাত্রটি পর পর দু’বার গণিতে ফেল করেছে। আমাদের কলেজে তাকে বিবেচনায় একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। কিন্তু এটা এইচএসসির সিলেবাস। বোর্ড পরীক্ষাতেও যদি তার এই অবস্থা থাকে তবে এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করার সম্ভাবনা নেই। তাই আমি কথাচ্ছলে একথা বলেছি যে, ‘বাবা তোমাকে দিয়ে আর পড়াশোনা হবে না’।

বাবা: আমার কথা হলো, ছেলে অংকে ফেল করছে কেন? আমি কলেজে এত টাকা মাসে মাসে বেতন দিচ্ছি। আপনাদের টিচাররা কী করছেন? আমার ছেলে অকৃতকার্য হয় টিচাররা কি দায়ী নয়?

অধ্যক্ষ: ওদের ক্লাসে গণিত তো আপনিই পড়ান। ছাত্রের বাবার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী বলবেন?

রহমান: স্যার, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, সবকিছু ক্লাসে বুঝিয়ে দিতে। কিন্তু বোঝার শক্তি সবার সমান নয়। কিছু ছাত্রছাত্রীকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বারবার চর্চা করাতে হয়, সময়ের ¯^ল্পতা, বেশি শিক্ষার্থী, দীর্ঘ সিলেবাস হওয়ার কারণে এটা অনেক সময়ই হয়ে ওঠে না। এখন থেকে আমি আরও বেশিভাবে চেষ্টা করব জাহিদের জন্য..

অধ্যক্ষ: উঁহু। শুধু বেশিভাবে চেষ্টা করলে হবে না। জাহিদকে কলেজের ক্লাস শুরু হওয়ার আগে অথবা পরে আপনি স্কুলে বসে তাকে আলাদাভাবে অংক করাবেন এবং তাকে দিয়ে যে পড়াশোনা সম্ভব এটা আপনিই তাকে বোঝাবেন।

রহমান: ঠিক আছে স্যার।  দেখ ছেলে ওটা আসলে আমি কথার কথা বলেছিলাম। তুমি তো অনেক মেধাবী জাহিদ। আজ থেকে তুমি ভালোভাবে পড়া শুরু করবে। দেখবে তুমি রেজাল্টে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে। আর কাল থেকে তুমি কলেজ শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ক্লাসে আসবে। আমি আমার রুমে বসে তোমাকে অংক দেখিয়ে দেব। দেখবে তুমি অংকেও খুব ভালো ফলাফল করবে। ঠিক আছে?

জাহিদ: জ্বি স্যার!

বাবা: আজ তাহলে চলি স্যার!

দৃশ্য: ৩

জাহিদ: স্যার!

রহমান: বলো।

জাহিদ: পরীক্ষায় পাশ করার জন্য আমাকে ক’টা অংক শিখতে হবে?

রহমান: দশটা অংক নির্ভুলভাবে করতে হবে।

জাহিদ: স্যার ওই দশটা অংক আমাকে শিখিয়ে দেন। অংক ভালো লাগছে না।

রহমান: আমি কি করে বলব, পরীক্ষায় কোন দশটা অংক আসবে।

জাহিদ: স্যার, আপনি সাজেশন দিলে নাকি সব অংক আসে। আমার বন্ধুরা বলে।

রহমান: সবসময় নয়, মাঝে মাঝে আসে।

জাহিদ: আমি শুধু আপনার সাজেশনগুলো পড়ব। অংকে আমি কোনো ইন্টারেস্ট পাই না।

রহমান: ঠিক আছে দেখছি।

 

দৃশ্য: ৪

বাবা: এবারও অংকে ফেল করেছিস। এতবড় স্পর্ধা ওই শিক্ষকের আমার ছেলে ফেল করে তারপরও তার চাকরি থাকে। চল আবার কলেজে দেখি তো মাস্টাররা করল কী!!!

মা: দেখো, টিচারদের কী দোষ! আমাদের ছেলে যদি অংক না বোঝে বা না আগ্রহ দেখায় তাহলে ও পাশ করবে কী করে!

বাবা: বোঝানোর দায়িত্ব মাস্টারের। ও এসএসসি পাশ করে এসেছে না? এখন কলেজে এই দশা হবে কেন? ছেলেকে আমি কলেজে পাঠাবো কেন, আর মাসের মাইনে দেবো কেন?

মা: আমরা বরং একটা বুয়েট বা ইউনিভার্সিটির একটা ছাত্র রেখে ওকে পড়াই। পরের টার্মে নিশ্চয় বাবাটা আমার ভালো করবে।

বাবা: নো! বাসায়ই যদি পড়াবো তবে কলেজে কেন পাঠাবো?  কলেজ থেকেই ওকে পাশ করে আসতে হবে। এই চল কলেজে আমার সঙ্গে-

মা: এই শোনো, একটু কথাটা শোন না!

 

 

দৃশ্য: ৫

অধ্যক্ষ: (খাতাগুলো নেড়ে চেড়ে দেখে) একি! তুমি যে অংকগুলো করেছ সেগুলো তো পরীক্ষাতেই আসেনি।

বাবা: মানে?

অধ্যক্ষ: ও যে অংকগুলো এখানে কষেছে সেগুলো প্রশ্নের মধ্যে নেই। দেখুন আপনি নিজেই দেখুন।

বাবা: জাহিদ, কেন এই অংকগুলো কষেছ। প্রশ্নে নেই এই অংক কোথায় পেলে?

জাহিদ: আমি তো প্রশ্নের অংক দেখিনি…

বাবা: তবে কোথায় পেলে এইসব?

জাহিদ: বাবা, স্যার বলেছেন, এই দশটা অংক সাজেশন্স। আমি সেই অংকগুলো মুখস্থ করেছি। সেগুলো পরীক্ষায় লিখে দিয়েছি। স্যার সেগুলো কি পরীক্ষায় আসেনি?

(রহমান সাহেব মাথা নিচু করে দেয়)

অধ্যক্ষ: রহমান সাহেব, আপনি তাকে এই সাজেশন্স দিয়েছেন?

রহমান: স্যার, পরীক্ষার জন্য সময় খুব অল্প ছিল, তাই আমাকে সাজেশনেই থাকতে হয়েছে।

অধ্যক্ষ: (বাবাকে) স্যরি, জেন্টলম্যান। আই অ্যাম রিয়েলি স্যরি। আমি বিশ্বাস করি আপনার ছেলে ঠিক জায়গায় ফিরে আসবে, সে সফল হবেই, আমি নিজে এর ভার নিলাম। আমাকে তিন মাস সময় দিন। আমি ঠিক করে ফেলবো সব, কথা দিচ্ছি।

বাবা: ওকে. আই অ্যাম লুকিং ফরোয়ার্ড…, হোপিং ফর দ্য বেস্ট। চলো জাহিদ (জাহিদ  ও বাবা চলে যায়)

অধ্যক্ষ: আপনি তাকে যে দশটি অংক সাজেশন্স হিসেবে দিয়েছিলেন সেই দশটি অংকই পরীক্ষার প্রশ্নে দিয়েছিলেন, অ্যাম আই রাইট?

রহমান: ইউ আর রাইট স্যার।

অধ্যক্ষ: কিন্তু আমি পরীক্ষার প্রশ্ন চেঞ্জ করে দিয়েছি। অন্য কলেজের শিক্ষক দিয়ে আমি প্রশ্ন করিয়ে এনেছি। কারণ তখনই আমার সন্দেহ হয়েছিল। দেখুন আপনি তাকে আলাদাভাবে পড়াচ্ছেন, সেই দশটি অংকই পরীক্ষায় দিচ্ছেন। এটা কি শিক্ষকের নৈতিকতার মধ্যে পড়ে? আপনার আদর্শ ওই ছাত্রটি কীভাবে বুকে ধারণ করবে বলুন।

রহমান: স্যার আমার ভুল হয়েছে। আমি এটাকে একটা বিরক্তিকর দায়িত্ব মনে করেছিলাম। তখন আমি সততা থেকে বিচ্যুত হয়েছি। আমি আরেকবার সুযোগ চাই স্যার। যদি অনুমতি দেন আমি এবার জাহিদের পাঠ্যবইয়ে আনন্দ সৃষ্টি করবো। সে মজা করে গণিত শিখবে। সে ক্রিয়েট করতে পারবে, এমনভাবেই আমি তাকে তৈরি করবো। আমি আমার সর্বোচ্চটা তাকে দিতে চেষ্টা করবো স্যার।

অধ্যক্ষ: বেশ, নিজের মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হোক এই কামনা করি। আর এই মনুষ্যত্বের সঞ্চারণ ঘটুক ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অধ্যক্ষ হিসেবে এ আমার পরম কাম্য…আসুন তবে…

রহমান: জি স্যার (উঠে যায়)

 

দৃশ্য: ৫

 

রহমান: জাহিদ, পড়াশোনা তোমার কেমন লাগে?

জাহিদ: ভালো লাগে না।

রহমান: আচ্ছা, আমি শিক্ষক হিসেবে কেমন?

জাহিদ: (চুপ)

রহমান: আমাকে কি তোমার ভালো লাগে?

জাহিদ: (না-সূচক মাথা নাড়ে)

রহমান: দেখ জাহিদ, পড়াশোনাতে ভালো করতে হলে, প্রথমে শিক্ষককে ভালোবাসতে হবে। কারণ শিক্ষক ছাড়া পাঠ্যবই তোমার ভালো লাগবে না। তাহলে জীবন আনন্দময় হবে।

জাহিদ: কিন্তু বইয়ে আমিতো কোনো আনন্দ খুঁজে পাচ্ছি না স্যার।

রহমান: তোমার মোবাইল ফোন আছে?

জাহিদ: (হ্যাঁসূচক মাথা নাড়ে)

রহমান: ওটা বের কর…

জাহিদ: এটাতে ইন্টারনেট নেওয়া যায় না, মা-বাবা আমাকে ফোন দিয়ে খবর নেয়। আর আমি মাঝে মাঝে গেইম করি…

রহমান: গেইম কেন ভাল লাগে?

জাহিদ: ওটার মধ্যে আনন্দ আছে

রহমান: এটা যদি এখন ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে তোমার কিন্তু আর আনন্দের কোনো উপকরণ থাকবে না। তাই আনন্দের উপকরণগুলো এমন হওয়া উচিত যার কোনো ধ্বংস নেই। যেমন ধরো জ্ঞান অর্জনের আনন্দ। জাহিদ, এখন আমি গল্প করলে তোমার ভালো লাগবে না অংক করালে তোমার ভালো লাগবে?

জাহিদ: গল্প করলে…

রহমান: বেশ আজ শুধু গল্প হবে..

(কিছুক্ষণ পড়ানোর দৃশ্য দেখানো হবে)

রহমান: আজ তাহলে এপর্যন্তই পড়া থাক। আগামীকাল আবার হবে। এখন ক্লাসে যাও-

জাহিদ: স্যার, কোনো পড়া তো হলো না! শুধু গল্পই বললেন!

রহমান: পড়াশোনার দরকার নেই। রোজ গল্প হবে কারণ সেটাই  তো তুমি চাও। (রহমান স্যার চলে যায়)

(ছাত্রটির কলেজ ড্রেস পরা বিভিন্ন মুভমেন্ট দেখানো যেতে পারে)

 

দৃশ্য: ৬

(কলেজের রেজাল্ট হওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। খুব আনন্দ উল্লাস চলছে। অনেকগুলো ছাত্রের মধ্যে  জাহিদকেও উল্লাস করে ভি সাইন দেখাতে দেখা যাবে। জাহিদের বাবা মিষ্টি হাতে নিয়ে সবাইকে মিষ্টি বিতরণ করতে থাকে। এরপর অধ্যক্ষের কক্ষে)

অধ্যক্ষ: এটা খুব মিরাকল। যে ছেলেটিকে নিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ছিলাম সে গোল্ডেন পেয়েছে! কীভাবে সম্ভব করলেন রহমান সাহেব। চব্বিশ বছরের শিক্ষকতা করেও এ আমার নতুন অভিজ্ঞতা হলো…

বাবা: স্যার, আমি আপনাদের কছে এই কলেজের কাছে বিশেষভাবে রহমান স্যারের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। তিনি আমার ছেলেকে পড়াশোনার পথে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছেন। গুরুর ছায়ায় আমার সন্তান প্রশ্রয় পেয়ে ¯^াবলম্বী হয়েছে, শক্তি অর্জন করেছে, এর কোনো তুলনা হয় না। জাহিদ, স্যারকে সালাম করো।

জাহিদ: (মাথা নিচু করে ) না-সূচক মাথা নাড়ে।

বাবা: কেন! তোমার স্যারই তো তোমাকে নতুন করে পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করলেন, সালাম করো বলছি..

জাহিদ: (রহমান স্যারের দিকে তাকিয়ে চোখ ছলছল করে না-সূচক মাথা নাড়তে নাড়তে পিছিয়ে যায়। এরপর দৌড়ে দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়)

বাবা: জাহিদ, জাহিদ …(ডাকতে ডাকতে বেরিয়ে যায়)

 

দৃশ্য: ৭

বাবা: আহা, তুমি মন খারাপ করছো কেন? ছেলে ফুল স্কলারশিপ পেয়ে বিদেশে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য আনন্দের কথা। তুমি ওর ব্যাগপত্র সব গুছিয়ে দিয়েছ তো?

মা: না, আমাকে কিছুই গোছাতে দেয়নি, বলছে নিজে নিজে পারবে।

বাবা: এই একটা ভালো কথা, তবুও ব্যাগে কিছু বাদটাদ পড়লো কি না সেটা তো দেখতে পারতে…

মা: এতটুকু একটা ছেলে আমার, বিদেশে একা একা ও চলতে পারবে কি করে! বারবার বলছি দেশেই পড়–ক। দেশে কি শিক্ষার অভাব পড়েছে?

বাবা: সায়মা, আমি মা-বাবা গ্রাম ছেড়েছিলাম ঠিক ওর মত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েই। ঢাকায় এসে এলাকার এক বড় ভাইয়ের মেসে উঠলাম। তারপর কত সমস্যা! খাবার টাকা নেই, টিউশন ফি নেই, একটা টিউশনি করতাম সেটার মাইনে রাস্তায় ছিনতাইকারী নিয়ে গেল। কী যে দিন গেছে। মা-বাবাকে জানাতে পারিনি। কারণ আজকের মতো মোবাইল ফোন তখন ছিল না। এখন মুহূর্তে মুহূর্তে তুমি ছেলের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবে। তাছাড়া যা সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটা এখন ভেবে কি লাভ? দেখো, যাওয়ার সময় ছেলের চোখে পানি আমি দেখতে চাই না। এতোটাই ¯^াভাবিক থাকতে হবে তোমাকে। ফ্রেশ হয়ে এসো…(বাবা জাহিদের ঘরে যায়)

জাহিদ: (খুব ছটফট করছে, ফোনটা বারবার নিচ্ছে এবং বিছানায় রেখে দিচ্ছে)

বাবা: জাহিদ, এই নে তোর এয়ার টিকেট, পাসপোর্ট। আর ভেতরে প্রয়োজনীয় ডলার দিয়ে দিয়েছি। আর দেরি করিস না, চল বেরিয়ে পড়ি। রাস্তায় জ্যাম থাকতে পারে। রাত আটটা দশে তোর ফ্লাইট।

জাহিদ: বাবা, স্যার ফোন ধরছে না!

বাবা: কোন স্যার?

জাহিদ: রহমান স্যার…

বাবা: ওতে সমস্যা নেই। ওখানে পৌঁছে স্যারকে একটা ফোন দিয়ে দিস, তবেই স্যার খুশি হয়ে যাবে।

জাহিদ: আমি স্যারের সঙ্গে দেখা না করে বিদেশ যাব না বাবা। তবে তো এক্ষুণি বেরুতে হবে। চল্ চল্ তাড়াতাড়ি…তিনটা বেজে গেছে।

 

 

 

দৃশ্য: ৮

(রহমান স্যারের বাড়িতে কলিং বেল বাজালে একটি মহিলা বেরিয়ে আসে)

জাহিদ: স্যার বাসায় নেই? আমি স্যারকে ফোন দিয়ে পাচ্ছি না তাই…

রহমানের স্ত্রী: ও-তো হাঁটতে বেরিয়েছে সেই ঘণ্টাখানেক আগে। ফোনটা বাসায় রেখে গেছে।

জাহিদ: হাঁটতে গেছে ! কোন এলাকায় হাঁটেন স্যার?

রহমানের স্ত্রী: লেকের পাড় দিয়ে হাঁটে…

জাহিদ: ও… আসি,  খুব তাড়াহুড়ো করে বাবা চলো…

(গাড়িতে)

বাবা: এটা একটা কথা হলো, লেকের এতো মানুষের মধ্যে তুমি তোমার স্যারকে খুঁজে পাবে? বুঝতে পারছো না, প্রায় ছ’টা বেজে গেছে দু’ঘণ্টা আগে তো এয়ারপোর্টে যেতে হবে

জাহিদ: বাবা, লেকের পাড়ে পাঁচ মিনিট দাঁড়াও প্লিজ.

(জাহিদ লেকে ধারে দৌড়ে এদিক ওদিক তাকায়, স্যারকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। বাবা গাড়িতে বসা)

(রহমান লেকের পাড়ে এক স্থানে বসা।)

জাহিদ: স্যার!

রহমান: জাহিদ, তুমি এখানে কেন?

স্যার, আমি স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরে পড়তে যাচ্ছি স্যার। আমি এয়ারপোর্টের দিকে রওয়ানা হয়েছি। কিছুক্ষণ পরেই আমার ফ্লাইট। সেদিন প্রিনসিপাল ম্যাডামের রুমে আমি আপনাকে পা ছুঁয়ে সালাম করিনি, কারণ আমার মনে হয়েছে সালাম করলেই স্যারের প্রতি কর্তব্য শেষ হয়ে যেত। আমি যে আপনাকে আমার অন্তরে ধারণ করেছি স্যার। আপনার আদর্শকে লালন করবো। কীভাবে গল্প করে গণিতের মতো একটা বিষয় আপনি আমাকে ভালো লাগিয়ে দিয়েছিলেন টের পাইনি। আমার মতো নির্বোধ ছাত্রকে যারা জীবনের পথ দেখায় তাঁদের পা ছুঁয়ে সালাম করলে কর্তব্য শেষ হয়ে যায় না। আপনি আমাকে ছায়া দিন, গুরুর ছায়া। যেন সূর্যের প্রখর  আলো ঝিকিমিকি আলোছায়া হয়ে আমার কাছে ধরা দেয়। আপনি যেমন আমাকে মানুষ বানিয়েছেন আমি যেন সেই মানুষই থাকি আজীবন… দোয়া করবেন স্যার!

(শিক্ষককে সালাম করতে যায়)

রহমান: (সালাম না করতে দিয়ে ধরে ফেলে) তুই-ই তো বললি সালাম করলে কর্তব্য শেষ হয়ে যাবে, পাগল ছেলে আমার বুকে আয়। তোকে ভরসা দিলাম, তুই অনেক বড় হবি, যা…ভালো থাকবি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

  • Prev Post
  • Next Post

LeaveComment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »